কুরবানির পশুর হাট বন্ধের প্রস্তাব

বাংলাদেশ

করোনার সংক্রমণ রোধে কুরবানির পশুর হাট বন্ধের প্রস্তাব করেছে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি।

গত সোমবার সন্ধ্যায় কমিটির সভায় এ প্রস্তাব করা হয়। তবে বুধবার রাত ১১টার দিকে গণমাধ্যমে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে এ বিষয়ে জানানো হয়। 

সভায় চলমান কঠোর লকডাউন আরও ১৪ দিন বাড়ানোর সুপারিশ করে কমিটি। সেই সঙ্গে লকডাউন শিথিল করায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। 

এর আগে মঙ্গলবার চলমান লকডাউন শিথিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সেই হিসাবে আজ বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) থেকে ২৩ জুলাই সকাল ৬টা পর্যন্ত শপিংমল খোলা থাকবে। চলবে গণপরিবহণ। তবে ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত আবার কঠোর লকডাউন শুরু হবে।  

এছাড়া লকডাউন শিথিল করলেও যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে পশুর হাট পরিচালনা করার কথা বলেছে সরকার।  

জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সভায় বলা হয়, সারাদেশে কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। এমতাবস্থায় লকডাউন শিথিল করার সরকারি সিদ্ধান্তে কমিটি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে। জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি চলমান কঠোর লকডাউন আরও ১৪ দিন বাড়ানোর সুপারিশ করে। 

লকডাউনের অংশ হিসেবে কমিটি কুরবানির হাট বন্ধ রাখার প্রস্তাব করে। প্রয়োজনে ডিজিটাল হাট পরিচালনার ব্যবস্থাও করা যেতে পারে। তবে সরকার লকডাউন শিথিল করে সীমিত পরিসরে কুরবানির হাট পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিলে, সেক্ষেত্রে বেশকিছু সুপারিশ করা হয়।

সুপারিশগুলো হলো-

-শহর এলাকায় কুরবানির পশুর হাট বসার অনুমতি না দেওয়া। 

-শারীরিক দূরত্ব এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি বজায় রেখে উন্মুক্ত স্থানে কুরবানির পশুর হাট বসানোর অনুমতি দেওয়া যেতে পারে।

-বয়স্ক ব্যক্তি (৫০ বছর বা তার বেশি) এবং অন্য কোনো রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির কুরবানির হাটে না যাওয়া।

-হাটে প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য নির্দিষ্টভাবে আলাদা পথ রাখা।

-বাজারে আসা সকলের জন্য মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা।

-জনসাধারণকে ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে না গিয়ে, যে যেখানে আছেন সেখানে অবস্থান করার বিষয়ে উৎসাহিত করা।

-জনসাধারণের অনলাইন কুরবানির হাটের সুবিধা গ্রহণে উৎসাহিত করা।

-বাড়ির আঙিনায় কুরবানি না করে, সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক নির্ধারিত স্থানে কুরবানির পশু জবাই করা।

-ঈদুল ফিতরের নামাজের জামাত যেভাবে আয়োজন করা হয়েছিল, এবারও তেমনভাবে ঈদুল আজহার জামাত আয়োজন করা।